ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যেভাবে বণ্টন হবে উচ্চকক্ষের আসন

  • প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময়: ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ১৭১ সময় দেখুন

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ। সংসদের নিম্নকক্ষে ৩০০ জন সংসদ সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেন আর ৫০ টি আসন থাকে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ।

তবে এবার প্রথমবারের মতো প্রচলন হতে যাওয়া উচ্চকক্ষের ১০০ টি আসন কিভাবে দলগুলোর মধ্যে বন্টিত হবে সে বিষয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯ টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। একইসাথে জুলাই জাতীয় সনদের উপর হওয়া গণভোট ৬৮.০৫ শতাংশ ‘হ্যা’ ভোট পেয়ে আইনি ভিত্তি পেয়েছে।

উচ্চকক্ষ বিষয়ে ২০২৩ সালে প্রকাশিত বিএনপি’র ৩১ দফায় বলা হয়েছিলো: “বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ প্রবর্তন করা হবে।”

তবে কোন পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মনোনীত করা হবে সে বিষয়ে কোন স্পষ্ট রূপরেখা নেই বিএনপির ৩১ দফায়।

২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বেশ আলোচিত একটি বিষয় ছিলো দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ।

ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হয়েছিলো সংসদে উচ্চকক্ষ রাখার বিষয়ে। তবে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোট নাকি আসনের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মনোনীত করা হবে সে বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারে নি দলগুলো।

নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন জুলাই জাতীয় সনদের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদে এমন বিধান রেখে জাতীয় ঐক্যমত কমিশন জুলাই সনদ স্বাক্ষর করে।

১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দেয়ার গণভোটে ৬৮.০৫ % ‘হ্যা’ ভোট পেয়ে জুলাই জাতীয় সনদ গৃহীত হয় এবং নির্বাচিত সনদের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদে ২৪ টি দল একমত হয়েছিলো এবং ৭ টি রাজনৈতিক দল ও জোট আপত্তি বা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলো । নোট অব ডিসেন্ট দেয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

জুলাই জাতীয় সনদের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের নোটে বলা হয়েছিলো, “ অবশ্য কোন রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যদি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে তাহলে তারা সেইমতে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবে।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে প্রকাশিত বিএনপির প্রকাশিত ইশতেহারে উচ্চকক্ষের আসন বিন্যাসের ব্যপারে বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক দলসমূহ নিন্মকক্ষের অর্জিত আসনসংখ্যার আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবে।”

সে হিসাবে নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে বিএনপি উচ্চকক্ষে ৭০ টি, জামায়াত ২৩ টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দুইটি আসন পেতে পারে।

তবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা ও ভারসাম্য (Check and Balance) নিশ্চিত করা।

নিম্নকক্ষের মতো উচ্চকক্ষেও যদি একই দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তবে আইন প্রণয়ন বা নীতি নির্ধারণে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

তবে পদ্ধতি যাই হোক, আসনের আনুপাতিক হারে কিংবা প্রাপ্ত ভোটের, ৭০% সিট নিয়ে বা ৫০ শতাংশশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা দলের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ কার্যত ‘সিলমোহর’ দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শাহরিয়ার আজম (সাংবাদিক ও লেখক)

ট্যাগ :

18 / 5,000 আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

Admin

যেভাবে বণ্টন হবে উচ্চকক্ষের আসন

আপডেটের সময়: ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ। সংসদের নিম্নকক্ষে ৩০০ জন সংসদ সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেন আর ৫০ টি আসন থাকে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ।

তবে এবার প্রথমবারের মতো প্রচলন হতে যাওয়া উচ্চকক্ষের ১০০ টি আসন কিভাবে দলগুলোর মধ্যে বন্টিত হবে সে বিষয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯ টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। একইসাথে জুলাই জাতীয় সনদের উপর হওয়া গণভোট ৬৮.০৫ শতাংশ ‘হ্যা’ ভোট পেয়ে আইনি ভিত্তি পেয়েছে।

উচ্চকক্ষ বিষয়ে ২০২৩ সালে প্রকাশিত বিএনপি’র ৩১ দফায় বলা হয়েছিলো: “বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ প্রবর্তন করা হবে।”

তবে কোন পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মনোনীত করা হবে সে বিষয়ে কোন স্পষ্ট রূপরেখা নেই বিএনপির ৩১ দফায়।

২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বেশ আলোচিত একটি বিষয় ছিলো দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ।

ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হয়েছিলো সংসদে উচ্চকক্ষ রাখার বিষয়ে। তবে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোট নাকি আসনের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মনোনীত করা হবে সে বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারে নি দলগুলো।

নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন জুলাই জাতীয় সনদের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদে এমন বিধান রেখে জাতীয় ঐক্যমত কমিশন জুলাই সনদ স্বাক্ষর করে।

১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দেয়ার গণভোটে ৬৮.০৫ % ‘হ্যা’ ভোট পেয়ে জুলাই জাতীয় সনদ গৃহীত হয় এবং নির্বাচিত সনদের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদে ২৪ টি দল একমত হয়েছিলো এবং ৭ টি রাজনৈতিক দল ও জোট আপত্তি বা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলো । নোট অব ডিসেন্ট দেয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

জুলাই জাতীয় সনদের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের নোটে বলা হয়েছিলো, “ অবশ্য কোন রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যদি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে তাহলে তারা সেইমতে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবে।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে প্রকাশিত বিএনপির প্রকাশিত ইশতেহারে উচ্চকক্ষের আসন বিন্যাসের ব্যপারে বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক দলসমূহ নিন্মকক্ষের অর্জিত আসনসংখ্যার আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবে।”

সে হিসাবে নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে বিএনপি উচ্চকক্ষে ৭০ টি, জামায়াত ২৩ টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দুইটি আসন পেতে পারে।

তবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা ও ভারসাম্য (Check and Balance) নিশ্চিত করা।

নিম্নকক্ষের মতো উচ্চকক্ষেও যদি একই দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তবে আইন প্রণয়ন বা নীতি নির্ধারণে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

তবে পদ্ধতি যাই হোক, আসনের আনুপাতিক হারে কিংবা প্রাপ্ত ভোটের, ৭০% সিট নিয়ে বা ৫০ শতাংশশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা দলের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ কার্যত ‘সিলমোহর’ দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শাহরিয়ার আজম (সাংবাদিক ও লেখক)