ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনা থানার এসআই মশিউরের বদলি, মামলা বাণিজ্যের গুঞ্জন

  • প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময়: ০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৪৯৪ সময় দেখুন

কুমিল্লার মেঘনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউরকে মেঘনা থানা থেকে বদলি করা হয়েছে।

 

রোববার (৪ জানুয়ারি) মেঘনা থানা সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। তবে মেঘনা থানা পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম এই বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাননি তিনি।

 

এদিকে, বদলি হওয়া এসআই মশিউর এর বিরুদ্ধে হয়রানি ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের একজন জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রামপ্রসাদের চরে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় তাদের ৯ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরদিন গ্রামবাসী ও মেঘনার শুভাকাঙ্ক্ষীরা থানায় অবস্থান নিলে তৎকালীন মেঘনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সঠিক তদন্তের আশ্বাস দেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে যেন আইনি জটিলতায় পড়তে না হয় সে বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেন।

 

তবে অভিযোগকারীরা জানান, পরবর্তী সময়ে একাধিকবার থানায় খোঁজ নিলে মেডিকেল রিপোর্টের অজুহাতে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া বিলম্বিত করা হয়। সর্বশেষ দুই মাসে এসআই মশিউরের আচরণ ও বক্তব্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

 

মামলার বাদী আমজাদ হোসেন আপোসে মামলা প্রত্যাহারের কথা বললেও তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এসআই মশিউরের তৎপরতা কমেনি। তিনি নাকি সার্কেল অফিসারের নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে মেডিকেল রিপোর্ট না আসার অজুহাতে ফাইনাল রিপোর্ট দিতে অস্বীকৃতি জানান প্রথমে। এরপর মেডিকেল রিপোর্ট আনার পর জানান, এই মামলার আর ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া যাবে না।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, তদন্তের এক পর্যায়ে এসআই মশিউর অনৈতিক দাবি করেন এবং বলেন, “যতজন দেবে, ততজনের নাম চার্জশিটে থাকবে না।”

 

এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার দিন অভিযোগকারীদের একজন রাজধানী ঢাকায় একটি জাতীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের অফিসে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন বলে জানান। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দিলেও এসআই মশিউর তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন এবং মৌখিক সাক্ষ্যকে বেশি গুরুত্ব দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ট্যাগ :

18 / 5,000 আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

Admin

জনপ্রিয় পোস্ট

সোহরাওয়ার্দী কলেজে টিসি ভর্তিতে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা, নেপথ্যে অফিস সহকারী ইব্রাহিম

মেঘনা থানার এসআই মশিউরের বদলি, মামলা বাণিজ্যের গুঞ্জন

আপডেটের সময়: ০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউরকে মেঘনা থানা থেকে বদলি করা হয়েছে।

 

রোববার (৪ জানুয়ারি) মেঘনা থানা সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। তবে মেঘনা থানা পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম এই বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাননি তিনি।

 

এদিকে, বদলি হওয়া এসআই মশিউর এর বিরুদ্ধে হয়রানি ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের একজন জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রামপ্রসাদের চরে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় তাদের ৯ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরদিন গ্রামবাসী ও মেঘনার শুভাকাঙ্ক্ষীরা থানায় অবস্থান নিলে তৎকালীন মেঘনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সঠিক তদন্তের আশ্বাস দেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে যেন আইনি জটিলতায় পড়তে না হয় সে বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেন।

 

তবে অভিযোগকারীরা জানান, পরবর্তী সময়ে একাধিকবার থানায় খোঁজ নিলে মেডিকেল রিপোর্টের অজুহাতে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া বিলম্বিত করা হয়। সর্বশেষ দুই মাসে এসআই মশিউরের আচরণ ও বক্তব্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

 

মামলার বাদী আমজাদ হোসেন আপোসে মামলা প্রত্যাহারের কথা বললেও তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এসআই মশিউরের তৎপরতা কমেনি। তিনি নাকি সার্কেল অফিসারের নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে মেডিকেল রিপোর্ট না আসার অজুহাতে ফাইনাল রিপোর্ট দিতে অস্বীকৃতি জানান প্রথমে। এরপর মেডিকেল রিপোর্ট আনার পর জানান, এই মামলার আর ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া যাবে না।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, তদন্তের এক পর্যায়ে এসআই মশিউর অনৈতিক দাবি করেন এবং বলেন, “যতজন দেবে, ততজনের নাম চার্জশিটে থাকবে না।”

 

এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার দিন অভিযোগকারীদের একজন রাজধানী ঢাকায় একটি জাতীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের অফিসে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন বলে জানান। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দিলেও এসআই মশিউর তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন এবং মৌখিক সাক্ষ্যকে বেশি গুরুত্ব দেন বলে অভিযোগ ওঠে।