নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে লায়লা জামান মিলন নামক এক নারীকে ছুরিকাঘাত ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে রামপ্রসাদের চর গ্রামের ৭ জনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ৭ জন হলেন, মোঃ শরীফ, বাহাউদ্দিন, রবিউল ইসলাম, আমান উল্লাহ, জুয়েল, আবুল কালাম আজাদ ও নাহিদ।
এই মামলার বাদী হলেন, মাজহারুল ইসলাম তুহিন। এজাহারে ভুক্তোভোগী লায়লা জামান মিলন সম্পর্কে তার ‘মা’ হন বলে উল্লেখ করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারের নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ ও শত্রুতা চলছিল। অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর স্বামীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা মন্তব্য করে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার দিন গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে লায়লা জামান মিলন কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার রামপ্রসাদের চর এলাকা থেকে অটোরিকশাযোগে নিজ বাড়ি জয়রামপুরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সোনারগাঁ থানাধীন সাহাপুর কাঠপট্টি এলাকার ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ নামের একটি দোকানের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা তার অটোরিকশা থামিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা গলায় চাপ দিয়ে, চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মেরে ভুক্তভোগীকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফোলা জখম করে। একপর্যায়ে মো. শরীফ (৩২) নামের এক অভিযুক্ত ছুরি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর পেটে আঘাত করলে তিনি ডান হাত দিয়ে প্রতিরোধ করলে হাতের কব্জিতে গুরুতর কাটা জখম হয়। এছাড়া বাহাউদ্দিন (২২) ও জুয়েল (২২) লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ভুক্তভোগীর মাথায় রক্তাক্ত জখম হয় এবং ডান হাতের কবজির হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে মাজহারুল ইসলাম তুহিন সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, বিবাদীরা জানিয়েছেন এজাহারে উল্লিখিত ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) তারা গ্রামে ছিলেন।
উল্লেখ্য গত ২ জানুয়ারি রামপ্রসাদের চর গ্রামের বসত ঘরে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে কুমিল্লা মেঘনা থানায় একটি মামলা করেছেন বাদী আলাল মিয়া। উক্ত মামলাতেও সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা মামলার বিবাদীদের অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদক 









