ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস: সত্যের পথে নির্ভীক সাংবাদিকতার অঙ্গীকার

  • প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময়: ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৪১ সময় দেখুন

মোহাইমিনুল হাসান,সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি।

 

প্রতি বছর ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস—একটি দিন যা শুধু উদযাপনের নয়,বরং আত্মসমালোচনা, প্রতিশ্রুতি এবং সাহসিকতার গল্প স্মরণ করার দিন। ১৯৯৩ সালে UNESCO -এর উদ্যোগে এই দিবসের সূচনা হয়,যার মূল লক্ষ্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্তম্ভ”। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ছাড়া স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।সত্যকে তুলে ধরা,ক্ষমতার অপব্যবহার প্রকাশ করা এবং জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা এই দায়িত্বই পালন করে সাংবাদিকরা। কিন্তু এই পথ কখনোই সহজ নয়।

 

বিশ্বজুড়ে আজও অসংখ্য সাংবাদিক নির্যাতন,হুমকি,এমনকি প্রাণনাশের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।অনেক দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত,সংবাদ প্রকাশে রয়েছে নানা বিধিনিষেধ।তবুও সত্যের অনুসন্ধান থেমে থাকে না। একজন সাংবাদিক যখন কলম ধরেন বা ক্যামেরা চালু করেন,তখন তিনি শুধু খবর তৈরি করেন না তিনি ইতিহাস রচনা করেন।

 

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য,শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা এসব বিষয় সামনে আনার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে একইসাথে ভুয়া খবর,অপপ্রচার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।

 

এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীনতা মানে শুধু অধিকার নয়,দায়িত্বও। তথ্য যাচাই, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখা এসবই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের মূল ভিত্তি।

 

আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা-সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা,দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চা করা।

 

গণমাধ্যম স্বাধীন থাকলে সমাজ এগিয়ে যায়, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়,আর মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।তাই বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস হোক সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর নতুন অঙ্গীকারের দিন।

ট্যাগ :

18 / 5,000 আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

Admin

মেঘনায় বড়কান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ব্যতিক্রম উদ্যোগ

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস: সত্যের পথে নির্ভীক সাংবাদিকতার অঙ্গীকার

আপডেটের সময়: ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

মোহাইমিনুল হাসান,সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি।

 

প্রতি বছর ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস—একটি দিন যা শুধু উদযাপনের নয়,বরং আত্মসমালোচনা, প্রতিশ্রুতি এবং সাহসিকতার গল্প স্মরণ করার দিন। ১৯৯৩ সালে UNESCO -এর উদ্যোগে এই দিবসের সূচনা হয়,যার মূল লক্ষ্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্তম্ভ”। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ছাড়া স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।সত্যকে তুলে ধরা,ক্ষমতার অপব্যবহার প্রকাশ করা এবং জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা এই দায়িত্বই পালন করে সাংবাদিকরা। কিন্তু এই পথ কখনোই সহজ নয়।

 

বিশ্বজুড়ে আজও অসংখ্য সাংবাদিক নির্যাতন,হুমকি,এমনকি প্রাণনাশের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।অনেক দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত,সংবাদ প্রকাশে রয়েছে নানা বিধিনিষেধ।তবুও সত্যের অনুসন্ধান থেমে থাকে না। একজন সাংবাদিক যখন কলম ধরেন বা ক্যামেরা চালু করেন,তখন তিনি শুধু খবর তৈরি করেন না তিনি ইতিহাস রচনা করেন।

 

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য,শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা এসব বিষয় সামনে আনার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে একইসাথে ভুয়া খবর,অপপ্রচার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।

 

এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীনতা মানে শুধু অধিকার নয়,দায়িত্বও। তথ্য যাচাই, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখা এসবই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের মূল ভিত্তি।

 

আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা-সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা,দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চা করা।

 

গণমাধ্যম স্বাধীন থাকলে সমাজ এগিয়ে যায়, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়,আর মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।তাই বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস হোক সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর নতুন অঙ্গীকারের দিন।