ঢাকা , বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতা কেন হিংস্র হয়?

  • প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময়: ০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • ১১৭ সময় দেখুন

নাসরিন সুলতানা

ক্ষমতা মানে দায়িত্ব,একটি আমানত, যা ন্যায় ও ইনসাফের সাথে পালন করা উচিত। ক্ষমতা বলতে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংস্থায় শক্তিশালী হয়ে কোনো ভালো কাজ করার সামর্থ্য বা দায়িত্ব পালন করার সক্ষমতাকে বোঝায়।

এটি বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন: শারীরিক শক্তি, সামাজিক প্রভাব, রাজনৈতিক ক্ষমতা, অথবা কোনো যন্ত্রের কাজ করার ক্ষমতা।

অথচ আমরা ক্ষমতাকে একটা ব্যাধি রুপে মানুষের কাছে উপস্থাপন করি। আমরা মনে করি ক্ষমতা মানেই অন্যের উপর প্রভাব খাটানো।

ক্ষমতা সাধারণত সরাসরি হিংস্র হয় না, তবে ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে হিংস্রতা দেখা দেয়। ক্ষমতার অপব্যবহারের কয়েকটি কারণ লক্ষ্য করা যেতে পারে –
লোভ: ক্ষমতা মানুষকে লোভী করে তোলে এবং এই লোভের বশবর্তী হয়ে অনেকে অন্যের প্রতি হিংস্র আচরণ করি।
অহংকার: ক্ষমতা অনেক সময় অহংকারের জন্ম দেয়, যা মানুষকে অন্যদের প্রতি অবজ্ঞা ও অশ্রদ্ধা করতে উৎসাহিত করে। মানুষ ধারণা করে আমিই সর্বে সর্বা। হয়তো আমার পরে আর কোন ক্ষমতাবান আসবে না,বা আসতে দিবো না।
প্রতিযোগিতা: ক্ষমতা দখলের জন্য বা তা ধরে রাখার জন্য প্রতিযোগিতা চলে, যা অনেক সময় হিংস্রতার দিকে মোড় নেয়।
রাজনৈতিক স্বার্থ: রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বা প্রতিপক্ষকে দমন করতে হিংস্র পথ অবলম্বন করতে পারেন।
সামাজিক বৈষম্য: সমাজে যখন বৈষম্য থাকে, তখন ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিরা তাদের সুবিধা লাভের জন্য অন্যদের প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণ করতে পারে।
অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা: যারা অযোগ্য বা ব্যর্থ, তারা ক্ষমতা পেলে তা দিয়ে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করে এবং হিংস্র হয়ে ওঠে,

অন্যদিকে, ক্ষমতাকে যদি দায়িত্ব ও সেবার মনোভাব নিয়ে ব্যবহার করা হয়, তবে তা হিংস্র না হয়ে জনকল্যাণে কাজে লাগতে পারে। তবে, ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে সমাজে সহিংসতা, বৈষম্য, এবং নিপীড়ন দেখা দেয়।

ক্ষমতা যখন ব্যক্তির হাতে আসে, তখন এটি হিংস্র হয়ে ওঠার সম্ভবনা থাকে, কারণ ক্ষমতা প্রায়ই অহংকার, লোভ ও স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম দেয়। যখন কেউ ক্ষমতা লাভ করে, তখন তার মধ্যে অন্যদের উপর নিয়ন্ত্রণ করার আকাঙ্ক্ষা বাড়ে, যা প্রায়শই সহিংসতার দিকে পরিচালিত করে।

এছাড়াও, ক্ষমতা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে এবং যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তারা নিজেদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করে, যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এর থেকে বেড়িয়ে আসা প্রতিটা নাগরিকের দায়িত্ব।

ক্ষমতা মানেই অন্যজনকে চাপে রাখা নয় বরং ক্ষমতা অন্যকে সহযোগিতার জন্য দেয়া হয়। সংসার পরিচালনা থেকে শুরু করে দেশ পরিচালনার জন্য ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার জরুরী।

ট্যাগ :

18 / 5,000 আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

Admin

সোহরাওয়ার্দী কলেজে টিসি ভর্তিতে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা, নেপথ্যে অফিস সহকারী ইব্রাহিম

ক্ষমতা কেন হিংস্র হয়?

আপডেটের সময়: ০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

নাসরিন সুলতানা

ক্ষমতা মানে দায়িত্ব,একটি আমানত, যা ন্যায় ও ইনসাফের সাথে পালন করা উচিত। ক্ষমতা বলতে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংস্থায় শক্তিশালী হয়ে কোনো ভালো কাজ করার সামর্থ্য বা দায়িত্ব পালন করার সক্ষমতাকে বোঝায়।

এটি বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন: শারীরিক শক্তি, সামাজিক প্রভাব, রাজনৈতিক ক্ষমতা, অথবা কোনো যন্ত্রের কাজ করার ক্ষমতা।

অথচ আমরা ক্ষমতাকে একটা ব্যাধি রুপে মানুষের কাছে উপস্থাপন করি। আমরা মনে করি ক্ষমতা মানেই অন্যের উপর প্রভাব খাটানো।

ক্ষমতা সাধারণত সরাসরি হিংস্র হয় না, তবে ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে হিংস্রতা দেখা দেয়। ক্ষমতার অপব্যবহারের কয়েকটি কারণ লক্ষ্য করা যেতে পারে –
লোভ: ক্ষমতা মানুষকে লোভী করে তোলে এবং এই লোভের বশবর্তী হয়ে অনেকে অন্যের প্রতি হিংস্র আচরণ করি।
অহংকার: ক্ষমতা অনেক সময় অহংকারের জন্ম দেয়, যা মানুষকে অন্যদের প্রতি অবজ্ঞা ও অশ্রদ্ধা করতে উৎসাহিত করে। মানুষ ধারণা করে আমিই সর্বে সর্বা। হয়তো আমার পরে আর কোন ক্ষমতাবান আসবে না,বা আসতে দিবো না।
প্রতিযোগিতা: ক্ষমতা দখলের জন্য বা তা ধরে রাখার জন্য প্রতিযোগিতা চলে, যা অনেক সময় হিংস্রতার দিকে মোড় নেয়।
রাজনৈতিক স্বার্থ: রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বা প্রতিপক্ষকে দমন করতে হিংস্র পথ অবলম্বন করতে পারেন।
সামাজিক বৈষম্য: সমাজে যখন বৈষম্য থাকে, তখন ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিরা তাদের সুবিধা লাভের জন্য অন্যদের প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণ করতে পারে।
অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা: যারা অযোগ্য বা ব্যর্থ, তারা ক্ষমতা পেলে তা দিয়ে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করে এবং হিংস্র হয়ে ওঠে,

অন্যদিকে, ক্ষমতাকে যদি দায়িত্ব ও সেবার মনোভাব নিয়ে ব্যবহার করা হয়, তবে তা হিংস্র না হয়ে জনকল্যাণে কাজে লাগতে পারে। তবে, ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে সমাজে সহিংসতা, বৈষম্য, এবং নিপীড়ন দেখা দেয়।

ক্ষমতা যখন ব্যক্তির হাতে আসে, তখন এটি হিংস্র হয়ে ওঠার সম্ভবনা থাকে, কারণ ক্ষমতা প্রায়ই অহংকার, লোভ ও স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম দেয়। যখন কেউ ক্ষমতা লাভ করে, তখন তার মধ্যে অন্যদের উপর নিয়ন্ত্রণ করার আকাঙ্ক্ষা বাড়ে, যা প্রায়শই সহিংসতার দিকে পরিচালিত করে।

এছাড়াও, ক্ষমতা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে এবং যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তারা নিজেদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করে, যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এর থেকে বেড়িয়ে আসা প্রতিটা নাগরিকের দায়িত্ব।

ক্ষমতা মানেই অন্যজনকে চাপে রাখা নয় বরং ক্ষমতা অন্যকে সহযোগিতার জন্য দেয়া হয়। সংসার পরিচালনা থেকে শুরু করে দেশ পরিচালনার জন্য ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার জরুরী।