ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নামে সৌন্দর্য বন্যা তবে দুর্যোগে তা ভয়াবহ

মিথিলা ভূইয়া হিরামনি

 

‘বন্যা’ নামটি দেখতে বা শুনতে সুন্দর হলেও বাস্তবতা হচ্ছে ভিন্ন। নামে এটি যতই সুন্দর বাস্তবে ততই ভয়াবহ। বন্যা নামের আক্ষরিক অর্থ বৃষ্টির পানি বা প্লাবন। এছাড়াও প্রতীকি অর্থে বন্যাকে নদীর জোয়ার বা প্রবাহিত জল বলে।

 

সাধারণত অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল বা নদীর বাঁধ ভেঙে স্বাভাবিক জলাশয়ের পানি উপচে যখন শুকনো বা লোকালয় তলিয়ে যায় এবং জনজীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে, তখন তাকে বন্যা বলে।

 

বন্যার প্রভাব বহুমুখী। যা দেশের মানুষের জীবন, অর্থনীতি, পশুপাখি,পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

 

বাংলাদেশে প্রধানত চার ধরনের বন্যা দেখা যায় :-
১. আকস্মিক বন্যা যা পাহাড়ি ঢল এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঘটে। সাধারণত বর্ষার শুরুতে এপ্রিল-মে মাসে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দেখা যায়।
২. নদীবাহিত বা মৌসুমী বন্যা যার ফলে প্রধান নদীগুলো যেমন: পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার পানি উপচে আশেপাশের এলাকায় প্লাবিত হয়। বর্ষা মৌসুম জুন-সেপ্টেম্বর মাসে দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এই বন্যার কবলে পড়ে।
৩. বৃষ্টিজনিত বন্যা যা অতিবৃষ্টির ফলে হয়ে থাকে। অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে না পারলে নিচু ও শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা বা বন্যার সৃষ্টি হয়।
৪. উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা যা বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় জেলাগুলোতে দেখা দেয়।

 

ভৌগোলিক অবস্থান ও নদীমাতৃক গঠন অনুযায়ী বন্যা বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রায় প্রতি বছরই এদেশে বন্যা হয়ে থাকে।

 

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য : ১৯৭৪ সালে দেশের ২২টি জেলা তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। এর ফলে পরবর্তীতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ১৯৮৮ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী বন্যা। দেশের প্রায় ৬০% এলাকা তলিয়ে যায় এবং ১৫ থেকে ২০ দিন স্থায়ী ছিল। ১৯৯৮ সালে দীর্ঘস্থায়ী এ বন্যায় দেশের ৬৮% এলাকা প্লাবিত হয় এবং প্রায় ৩০ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এছাড়াও, ২০২২ সালে আকস্মিক বন্যায় সিলেট ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যায়, যার মধ্যে সিলেট বিভাগের ৮২% অঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। ২০২৪ সালে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বন্যা, যা দেশের উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এমনকি ২০০৪ ও ২০০৭ সালেও বন্যায় হয়।

 

এবছরও অর্থাৎ ২০২৬ সালের বণ্যায় চট্টগ্রাম সিলেট, ঢাকা সহ পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই সমস্ত অঞ্চলের অনেক যায়গায় পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নশ্রেণীর মানুষগুলোর অনেক ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

 

সবশেষে, বন্যা এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার ফলে মানুষ, পশুপাখি, কৃষি ফসল, বসবাস এর স্থান কোনো কিছুরই অস্তিত্ব থাকে না। কাজেই এসময় শুকনা খাবার, পরিষ্কার পানযোগ্য পানি, বিভিন্ন ঔষধ এমনকি প্রয়োজনি সকল জিনিস সাথে রাখা জরুরি।

ট্যাগ :

18 / 5,000 আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

Admin

নামে সৌন্দর্য বন্যা তবে দুর্যোগে তা ভয়াবহ

নামে সৌন্দর্য বন্যা তবে দুর্যোগে তা ভয়াবহ

আপডেটের সময়: ১০ ঘন্টা আগে

মিথিলা ভূইয়া হিরামনি

 

‘বন্যা’ নামটি দেখতে বা শুনতে সুন্দর হলেও বাস্তবতা হচ্ছে ভিন্ন। নামে এটি যতই সুন্দর বাস্তবে ততই ভয়াবহ। বন্যা নামের আক্ষরিক অর্থ বৃষ্টির পানি বা প্লাবন। এছাড়াও প্রতীকি অর্থে বন্যাকে নদীর জোয়ার বা প্রবাহিত জল বলে।

 

সাধারণত অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল বা নদীর বাঁধ ভেঙে স্বাভাবিক জলাশয়ের পানি উপচে যখন শুকনো বা লোকালয় তলিয়ে যায় এবং জনজীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে, তখন তাকে বন্যা বলে।

 

বন্যার প্রভাব বহুমুখী। যা দেশের মানুষের জীবন, অর্থনীতি, পশুপাখি,পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

 

বাংলাদেশে প্রধানত চার ধরনের বন্যা দেখা যায় :-
১. আকস্মিক বন্যা যা পাহাড়ি ঢল এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঘটে। সাধারণত বর্ষার শুরুতে এপ্রিল-মে মাসে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দেখা যায়।
২. নদীবাহিত বা মৌসুমী বন্যা যার ফলে প্রধান নদীগুলো যেমন: পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার পানি উপচে আশেপাশের এলাকায় প্লাবিত হয়। বর্ষা মৌসুম জুন-সেপ্টেম্বর মাসে দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এই বন্যার কবলে পড়ে।
৩. বৃষ্টিজনিত বন্যা যা অতিবৃষ্টির ফলে হয়ে থাকে। অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে না পারলে নিচু ও শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা বা বন্যার সৃষ্টি হয়।
৪. উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা যা বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় জেলাগুলোতে দেখা দেয়।

 

ভৌগোলিক অবস্থান ও নদীমাতৃক গঠন অনুযায়ী বন্যা বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রায় প্রতি বছরই এদেশে বন্যা হয়ে থাকে।

 

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য : ১৯৭৪ সালে দেশের ২২টি জেলা তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। এর ফলে পরবর্তীতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ১৯৮৮ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী বন্যা। দেশের প্রায় ৬০% এলাকা তলিয়ে যায় এবং ১৫ থেকে ২০ দিন স্থায়ী ছিল। ১৯৯৮ সালে দীর্ঘস্থায়ী এ বন্যায় দেশের ৬৮% এলাকা প্লাবিত হয় এবং প্রায় ৩০ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এছাড়াও, ২০২২ সালে আকস্মিক বন্যায় সিলেট ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যায়, যার মধ্যে সিলেট বিভাগের ৮২% অঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। ২০২৪ সালে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বন্যা, যা দেশের উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এমনকি ২০০৪ ও ২০০৭ সালেও বন্যায় হয়।

 

এবছরও অর্থাৎ ২০২৬ সালের বণ্যায় চট্টগ্রাম সিলেট, ঢাকা সহ পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই সমস্ত অঞ্চলের অনেক যায়গায় পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নশ্রেণীর মানুষগুলোর অনেক ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

 

সবশেষে, বন্যা এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার ফলে মানুষ, পশুপাখি, কৃষি ফসল, বসবাস এর স্থান কোনো কিছুরই অস্তিত্ব থাকে না। কাজেই এসময় শুকনা খাবার, পরিষ্কার পানযোগ্য পানি, বিভিন্ন ঔষধ এমনকি প্রয়োজনি সকল জিনিস সাথে রাখা জরুরি।