ঢাকা , শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসন পরিবর্তনে মেঘনার জনমানুষের লাভ কোথায়?

  • প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময়: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • ২৩৬ সময় দেখুন

মতামত: আমির ইসলাম রাহিম

 

মেঘনার আসন হোমনার সাথে হোক বা দাউদকান্দির সাথে হোক এই পরিবর্তনে মেঘনার মানুষের জীবনে আদৌ কোন ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে কি না এই ন্যূনতম প্রশ্নটা কি কোনো নেতা একবারও সৎভাবে ভেবেছেন? উত্তরটা সবাই জানে—না।

 

কারণ এই সীমানা পুনর্গঠন কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনার ফল নয়। এটা জনগণের চাহিদা থেকে আসেনি। এটা কোনো গবেষণা, কোনো গণশুনানি কিংবা জনমতের প্রতিফলন নয়। এটা সরাসরি ক্ষমতার হিসাব, দলীয় সুবিধা আর ব্যক্তিগত স্বার্থের অঙ্ক।

 

মেঘনার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে কিন্তু কেউ ভাবে না। স্বাস্থ্যসেবায় মানুষ চিকিৎসা পায় না কিন্তু কেউ প্রশ্ন তোলে না। রাস্তাঘাট, কর্মসংস্থান, কৃষকের ন্যায্য মূল্য এসব কোনো আলোচনার জায়গা পায় না।

 

আলোচনায় থাকে শুধু—কে কোন আসনে নিরাপদ থাকবে, কোন গ্রুপ মনোনয়ন পাবে,আর কোন গ্রুপের পকেট আরও ভারী হবে। আপনারা মুখে জনগণের কথা বলেন,কিন্তু বাস্তবে জনগণ আপনাদের কাছে শুধু একটি সংখ্যা, শুধু একটি ভোট ব্যাংক, ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়ার মতো একটি হাতিয়ার।

 

যদি রাজনীতি সত্যিই জনগণের জন্য হতো, তাহলে সবার আগে প্রশ্ন আসত এই সিদ্ধান্তে মেঘনার মানুষ কী পাবে? কিন্তু এই প্রশ্নটাই আপনাদের অস্বস্তিতে ফেলে। কারণ এই প্রশ্নের উত্তর দিলে সত্যটা প্রকাশ হয়ে যাবে।

 

আর সবচেয়ে ঘৃণ্য ও ন্যাক্কারজনক বাস্তবতা হলো মেঘনার মানুষের ভবিষ্যৎ নয়, বরং বিএনপির দুই গ্রুপের হিসাবই এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক গ্রুপ চায় মেঘনা এক উপজেলায় থাকুক, আরেক গ্রুপ চায় আরেক উপজেলায়, দুই গ্রুপই খুশি, যদি নিজেদের গ্রুপিং আর সুবিধা ঠিক থাকে।

 

এই ভাগাভাগির খেলায় মেঘনার মানুষ কোথায়?এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। এটা রাজনীতি নয় এটা একটি বাজার।

 

এখানে এলাকা কেনাবেচা হয়, ক্ষমতার লেনদেন হয়, কিন্তু মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। কেউ গণশুনানি করে না, কেউ স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয় না, কেউ দায় নিতে রাজি নয়। কারণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ঢাকার এসি রুমে বসে মেঘনার মানুষের রক্ত–ঘাম, কষ্ট আর বাস্তবতা ছুঁয়েও না দেখে।

ট্যাগ :

18 / 5,000 আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

Admin

জনপ্রিয় পোস্ট

সোহরাওয়ার্দী কলেজে নেই জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ

আসন পরিবর্তনে মেঘনার জনমানুষের লাভ কোথায়?

আপডেটের সময়: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

মতামত: আমির ইসলাম রাহিম

 

মেঘনার আসন হোমনার সাথে হোক বা দাউদকান্দির সাথে হোক এই পরিবর্তনে মেঘনার মানুষের জীবনে আদৌ কোন ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে কি না এই ন্যূনতম প্রশ্নটা কি কোনো নেতা একবারও সৎভাবে ভেবেছেন? উত্তরটা সবাই জানে—না।

 

কারণ এই সীমানা পুনর্গঠন কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনার ফল নয়। এটা জনগণের চাহিদা থেকে আসেনি। এটা কোনো গবেষণা, কোনো গণশুনানি কিংবা জনমতের প্রতিফলন নয়। এটা সরাসরি ক্ষমতার হিসাব, দলীয় সুবিধা আর ব্যক্তিগত স্বার্থের অঙ্ক।

 

মেঘনার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে কিন্তু কেউ ভাবে না। স্বাস্থ্যসেবায় মানুষ চিকিৎসা পায় না কিন্তু কেউ প্রশ্ন তোলে না। রাস্তাঘাট, কর্মসংস্থান, কৃষকের ন্যায্য মূল্য এসব কোনো আলোচনার জায়গা পায় না।

 

আলোচনায় থাকে শুধু—কে কোন আসনে নিরাপদ থাকবে, কোন গ্রুপ মনোনয়ন পাবে,আর কোন গ্রুপের পকেট আরও ভারী হবে। আপনারা মুখে জনগণের কথা বলেন,কিন্তু বাস্তবে জনগণ আপনাদের কাছে শুধু একটি সংখ্যা, শুধু একটি ভোট ব্যাংক, ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়ার মতো একটি হাতিয়ার।

 

যদি রাজনীতি সত্যিই জনগণের জন্য হতো, তাহলে সবার আগে প্রশ্ন আসত এই সিদ্ধান্তে মেঘনার মানুষ কী পাবে? কিন্তু এই প্রশ্নটাই আপনাদের অস্বস্তিতে ফেলে। কারণ এই প্রশ্নের উত্তর দিলে সত্যটা প্রকাশ হয়ে যাবে।

 

আর সবচেয়ে ঘৃণ্য ও ন্যাক্কারজনক বাস্তবতা হলো মেঘনার মানুষের ভবিষ্যৎ নয়, বরং বিএনপির দুই গ্রুপের হিসাবই এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক গ্রুপ চায় মেঘনা এক উপজেলায় থাকুক, আরেক গ্রুপ চায় আরেক উপজেলায়, দুই গ্রুপই খুশি, যদি নিজেদের গ্রুপিং আর সুবিধা ঠিক থাকে।

 

এই ভাগাভাগির খেলায় মেঘনার মানুষ কোথায়?এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। এটা রাজনীতি নয় এটা একটি বাজার।

 

এখানে এলাকা কেনাবেচা হয়, ক্ষমতার লেনদেন হয়, কিন্তু মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। কেউ গণশুনানি করে না, কেউ স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয় না, কেউ দায় নিতে রাজি নয়। কারণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ঢাকার এসি রুমে বসে মেঘনার মানুষের রক্ত–ঘাম, কষ্ট আর বাস্তবতা ছুঁয়েও না দেখে।