ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যাম্পাসে ধূমপান নিষিদ্ধ, তবুও সোহরাওয়ার্দী কলেজের রান্নাঘরের পাশে সিগারেটের ছড়াছড়ি

মোহাইমিনুল হাসান, সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি

 

বাংলাদেশে প্রচলিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ। সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব স্থানে ধূমপান বন্ধে আইনগত বিধিনিষেধ থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় তা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না।

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাসের রান্নাঘরের পাশের এলাকায় সম্প্রতি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে ওই স্থানে নিয়মিত ধূমপানের ঘটনাও লক্ষ্য করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার প্রচেষ্টা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এর শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল জাবের বলেন,আমি একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে মনে করি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধূমপান সম্পূর্ণ অনুচিত। এটি শুধু ধূমপায়ীর নয়, আশপাশের সবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যাম্পাসের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নষ্ট করে। তাই নিয়মিত নজরদারি ও ধূমপানবিরোধী নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত রাখা প্রয়োজন। মাদককে না বলি, সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ে তুলি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আরেক শিক্ষার্থী মুমিনুল ইসলাম বলেন,কলেজ ক্যাম্পাস শিক্ষার আঙিনা, তাই এখানে ধূমপান সম্পূর্ণ অনুচিত। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যাম্পাসকে ধূমপানমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। সবার সচেতনতায় সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আগন্ত বাবু বলেন,আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি পাবলিক প্লেস, যেখানে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ কলেজের রান্নাঘরের পাশের এলাকায় সিগারেটের বাট পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ওই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক কর্মচারী বলেন,ওই এলাকায় বহিরাগতদের যাতায়াত খুবই কম। মূলত কলেজের কিছু শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে ধূমপান করেন।তাদের ধূমপানে বাধা দেওয়া হয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,তারা ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন,আমার জানা মতে ছাত্রদলের কোনো সদস্য কলেজ ক্যাম্পাসে ধূমপানের সঙ্গে জড়িত নন। তবে যদি সংগঠনের কোনো সদস্য কলেজের অভ্যন্তরে ধূমপান করেছেন বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করা হবে এবং সাংগঠনিকভাবেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন,সিগারেটের অবশিষ্টাংশ দ্রুত পরিষ্কার করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে,সেজন্য ওই স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ :

18 / 5,000 আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

Admin

নামে সৌন্দর্য বন্যা তবে দুর্যোগে তা ভয়াবহ

ক্যাম্পাসে ধূমপান নিষিদ্ধ, তবুও সোহরাওয়ার্দী কলেজের রান্নাঘরের পাশে সিগারেটের ছড়াছড়ি

আপডেটের সময়: ৯ ঘন্টা আগে

মোহাইমিনুল হাসান, সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি

 

বাংলাদেশে প্রচলিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ। সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব স্থানে ধূমপান বন্ধে আইনগত বিধিনিষেধ থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় তা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না।

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাসের রান্নাঘরের পাশের এলাকায় সম্প্রতি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে ওই স্থানে নিয়মিত ধূমপানের ঘটনাও লক্ষ্য করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার প্রচেষ্টা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এর শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল জাবের বলেন,আমি একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে মনে করি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধূমপান সম্পূর্ণ অনুচিত। এটি শুধু ধূমপায়ীর নয়, আশপাশের সবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যাম্পাসের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নষ্ট করে। তাই নিয়মিত নজরদারি ও ধূমপানবিরোধী নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত রাখা প্রয়োজন। মাদককে না বলি, সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ে তুলি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আরেক শিক্ষার্থী মুমিনুল ইসলাম বলেন,কলেজ ক্যাম্পাস শিক্ষার আঙিনা, তাই এখানে ধূমপান সম্পূর্ণ অনুচিত। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যাম্পাসকে ধূমপানমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। সবার সচেতনতায় সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আগন্ত বাবু বলেন,আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি পাবলিক প্লেস, যেখানে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ কলেজের রান্নাঘরের পাশের এলাকায় সিগারেটের বাট পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ওই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক কর্মচারী বলেন,ওই এলাকায় বহিরাগতদের যাতায়াত খুবই কম। মূলত কলেজের কিছু শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে ধূমপান করেন।তাদের ধূমপানে বাধা দেওয়া হয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,তারা ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন,আমার জানা মতে ছাত্রদলের কোনো সদস্য কলেজ ক্যাম্পাসে ধূমপানের সঙ্গে জড়িত নন। তবে যদি সংগঠনের কোনো সদস্য কলেজের অভ্যন্তরে ধূমপান করেছেন বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করা হবে এবং সাংগঠনিকভাবেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন,সিগারেটের অবশিষ্টাংশ দ্রুত পরিষ্কার করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে,সেজন্য ওই স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।