ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনায় মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ

  • প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময়: ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৬ সময় দেখুন

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক দফতরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নানা ধরণের সরকারি ভাতা প্রদানের জন্য কার্ড করে দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূত অর্থ আদায় করেন তিনি। বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা, কখনও আরও বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সোবহান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ের মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ডের জন্য আবেদন করার পর তাকে জানানো হয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে মোবাইলে ভাতার টাকা জমার বার্তা পেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে ব্যাংকে ডেকে ৬ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়া হয় এবং বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়। পরে তিনি মোট ১৪ হাজার ৬০০ টাকা পান। এক্ষেত্রে নিয়ম অনুসারে তার মোট অর্থ প্রাপ্তির পরিমাণ সম্ভাবনা ছিলো ২৮ হাজার ৮০০ টাকা।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের জন্য তিনি এনজিওকর্মীদের দায়িত্ব প্রদান করতেন। এক্ষেত্রে সেই কর্মীগণ গ্রামে গ্রামে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে ভাতার কার্ডের আবেদন সম্পন্ন করতেন।

 

উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামে এক এনজিওকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি  দীর্ঘদিন ধরে ভাতা কার্ড প্রক্রিয়ায় মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে কাজ করিয়ে দেন। এ ধরনের কাজে আরও ১০-১৫ জন মাঠকর্মী জড়িত আছেন বলেও জানান তিনি।

 

এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মোঃ এমদাদ হোসেন বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড করতে কোনো টাকা লাগে না, কেবল আবেদন প্রক্রিয়ায় সামান্য খরচ হয়। তিনি মাঠকর্মী থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেন।

 

সোবহান মিয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী টাকা না পাওয়ায় তিনি নিজেই ব্যাংকে গিয়ে তার প্রাপ্য টাকা তুলে দিয়েছেন। এছাড়া তার নামে থাকা পাঁচতলা ভবনটি ব্যক্তিগত নয়, পারিবারিকভাবে নির্মিত বলে দাবি করেন তিনি।

 

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের তথ্য অনুসারে বাংলাদেশ সরকারের মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান করা হয়। প্রতি মাসে ৮০০ টাকা করে ৩৬ মাসে একজন মা মোট ২৮হাজার ৮০০ টাকা পেয়ে থাকেন। তবে ৬ মাস পরপর এই অর্থ উত্তোলন করা যায়। এছাড়া, এই ভাতা প্রাপ্তির আবেদন ফি-ও রাখেনি সরকার।

ট্যাগ :

18 / 5,000 আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

Admin

মেঘনায় মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ

মেঘনায় মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক দফতরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নানা ধরণের সরকারি ভাতা প্রদানের জন্য কার্ড করে দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূত অর্থ আদায় করেন তিনি। বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা, কখনও আরও বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সোবহান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ের মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ডের জন্য আবেদন করার পর তাকে জানানো হয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে মোবাইলে ভাতার টাকা জমার বার্তা পেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে ব্যাংকে ডেকে ৬ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়া হয় এবং বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়। পরে তিনি মোট ১৪ হাজার ৬০০ টাকা পান। এক্ষেত্রে নিয়ম অনুসারে তার মোট অর্থ প্রাপ্তির পরিমাণ সম্ভাবনা ছিলো ২৮ হাজার ৮০০ টাকা।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের জন্য তিনি এনজিওকর্মীদের দায়িত্ব প্রদান করতেন। এক্ষেত্রে সেই কর্মীগণ গ্রামে গ্রামে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে ভাতার কার্ডের আবেদন সম্পন্ন করতেন।

 

উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামে এক এনজিওকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি  দীর্ঘদিন ধরে ভাতা কার্ড প্রক্রিয়ায় মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে কাজ করিয়ে দেন। এ ধরনের কাজে আরও ১০-১৫ জন মাঠকর্মী জড়িত আছেন বলেও জানান তিনি।

 

এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মোঃ এমদাদ হোসেন বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড করতে কোনো টাকা লাগে না, কেবল আবেদন প্রক্রিয়ায় সামান্য খরচ হয়। তিনি মাঠকর্মী থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেন।

 

সোবহান মিয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী টাকা না পাওয়ায় তিনি নিজেই ব্যাংকে গিয়ে তার প্রাপ্য টাকা তুলে দিয়েছেন। এছাড়া তার নামে থাকা পাঁচতলা ভবনটি ব্যক্তিগত নয়, পারিবারিকভাবে নির্মিত বলে দাবি করেন তিনি।

 

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের তথ্য অনুসারে বাংলাদেশ সরকারের মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান করা হয়। প্রতি মাসে ৮০০ টাকা করে ৩৬ মাসে একজন মা মোট ২৮হাজার ৮০০ টাকা পেয়ে থাকেন। তবে ৬ মাস পরপর এই অর্থ উত্তোলন করা যায়। এছাড়া, এই ভাতা প্রাপ্তির আবেদন ফি-ও রাখেনি সরকার।