দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে মেঘনা উপজেলা বিএনপি।
শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মানিকারচর আম্বিয়া সুপারমার্কেটে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আজহারুল হক শাহীন বলেন, ‘১৯৯৮ সালে হোমনার চারটি ইউনিয়ন এবং দাউদকান্দির তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে বর্তমান মেঘনা উপজেলা গঠিত হয়। এর পর থেকেই মেঘনার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ অধিকাংশ সরকারি সেবা কার্যক্রম হোমনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
মেঘনা উপজেলা গঠনের ইতিহাস, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও প্রশাসনিক কাঠামো বিবেচনায় হোমনা-মেঘনা সমন্বয়ে গঠিত আসনটি ছিল যথার্থ ও কার্যকর।’
তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় মেঘনার সঙ্গে দাউদকান্দির সেতুবন্ধন নেই। কারণ দুটি উপজেলার মাঝে রয়েছে বিশাল মেঘনা নদী। অথচ ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন একপক্ষীয়ভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির স্বার্থে হোমনা-মেঘনার স্থায়ী সংযোগ ভেঙে দেয়।
আরও পড়ুন
» ৪ দিনের রিমান্ডে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত নেতা অপু
» কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় শিশুসহ ৪ জন নিহত
তিতাস উপজেলাকে হোমনার সঙ্গে এবং মেঘনাকে দাউদকান্দির সঙ্গে যুক্ত করে কৃত্রিম আসন গঠন করে, যা মেঘনা অঞ্চলের মানুষের জন্য ছিল একটি অবিচার।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৩ সালের ১ জুন প্রকাশিত গেজেটে পূর্বের ভুল সংশোধন করে হোমনা-মেঘনা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসন পুনর্গঠন করা হয় এবং সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও সেই সীমানা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নতুন খসড়া তালিকায় আবারও মেঘনাকে দাউদকান্দির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের সীমানা নির্ধারণ আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। যদি ১০ আগস্টের ঘোষণায় এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়, তাহলে হোমনা ও মেঘনা বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল অদুদ মুন্সী, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মতিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সাহাবুদ্দিনসহ প্রমুখ। তারা প্রকাশিত খসড়া বাতিল করে পূর্বের সীমানা পুনর্বহালের দাবি জানান।

প্রতিবেদক 









